Sunday, 30 October 2016

bhubhubhububhu ভূতtttttttttttttttttttt

 পরশু রাতে পষ্ট চোখে দেখনু বিনা চশমাতে,
পান্তভূতের জ্যান্ত ছানা করছে খেলা জোছ্‌নাতে।
কচ্ছে খেলা মায়ের কোলে হাত-পা নেড়ে উল্লাসে, আহ্লাদেতে ধুপধুপিয়ে কচ্ছে কেমন হল্লা সে।
শুন্‌তে পেলাম ভূতের মায়ের মুচ্‌কি হাসি কট্কটে—
দেখছে নেড়ে ঝুন্‌টি ধ'রে বাচ্চা কেমন চট্পটে।
উঠছে তাদের হাসির হানা কাষ্ঠ সুরে ডাক ছেড়ে,
খ্যাঁশ খ্যাঁশানি শব্দে যেন করাৎ দিয়ে কাঠ চেরে!
যেমন খুশি মার্‌ছে ঘুঁষি দিচ্ছে কষে কানমলা,
আদর ক’রে আছাড় মেরে শূন্যে ঝোলে চ্যাং দোলা।
বলছে আবার, “আয় রে আমার নোংরামুখো সুঁটকো রে,
দেখ না ফিরে প্যাখ্না ধরে হুতোম-হাসি মুখ করে!
ওরে আমার বাঁদর নাচন আদর-গেলা কোঁৎকা রে,
অন্ধবনের গন্ধ-গোকুল, ওরে আমার হোঁৎকা রে!
ওরে আমার বাদলা রোদে জষ্ঠি মাসের বিষ্টি রে,
ওরে আমার হামান-ছেঁচা যষ্টিমধুর মিষ্টি রে।
ওরে আমার রান্না হাঁড়ির কান্না হাসির ফোড়নদার,
ওরে আমার জোছনা হাওয়ার স্বপ্নঘোড়ার চড়নদার।
ওরে আমার গোবরাগণেশ ময়দাঠাসা নাদুস্‌ রে,
ছিঁচকাঁদুনে ফোক্‌লা মানিক ফের যদি তুই কাঁদিস রে—”
এই না ব’লে যেই মেরেছে কাদার চাপটি ফট্ করে,
কোথায়-বা কি, ভূতের ফাঁকি—মিলিয়ে গেল চট্ ক’রে!
           
বাংলা লোকসাহিত্যে ভূত একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পুরাতন এবং নতুন উভয় বাংলা রূপকথায় প্রায়ই ভূতের ধারণা ব্যবহার করা হয়। আধুনিক বাংলা সাহিত্যেও প্রায়ই ভূতের উদাহরণ পাওয়া যায়। বিশ্বাস করা হয়, ভূত হল সেই সব অশরীরি আত্মা যারা মৃত্যুর পরবর্তী জীবনে শান্তি খুঁজে পায়নি (যাদের অতৃপ্ত আত্মাও বলা হয়ে থাকে) বা পৃথিবীতে অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছে (যেমন খুন, আত্মহত্যা বা দূর্ঘটনা)। এছাড়াও বিশ্বাস করা হয়, অন্যান্য জীবজন্তু বা প্রানীও তাদের মৃত্যুর পরে ভূতে পরিণত হতে পারে। বাংলায় ভূতকে মাঝে মাঝে প্রেতাত্মা (সংস্কৃত) হিসেবেও উল্লেখ করা হয়। প্রেতাত্মার নারীবাচক শব্দকে পেত্নী হিসেবে এবং পুরুষবাচক শব্দকে প্রেত বলা হয়ে থাকে।



বাংলা সংস্কৃতিতে অনেক ধরনের ভূতের বিশ্বাস রয়েছে; তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলো,
  • পেত্নী: পেত্নী হলো নারী ভূত যারা বেঁচে থাকতে কিছু অতৃপ্ত আশা ছিল এবং অবিবাহিতভাবে মৃত্যুবরণ করেছে। পেত্নী শব্দটি সংস্কৃত প্রেত্নী শব্দ থেকে এসেছে (পুরুষবাচক শব্দ প্রেত)। এসব ভূত সাধারনত যে কোন আকৃতি ধারন করতে পারে, এমনকি পুরুষের আকারও ধারণ করতে পারে। এসব ভূত সাধারনত বেঁচে থাকতে কোন অপরাধ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকে এবং মৃত্যুর পর অভিশিপ্ত হয়ে পৃথিবীতে বিচরণ করে। পেত্নীরা সাধারনত ভীষণ বদমেজাজী হয়ে থাকে এবং কাউকে আক্রোমনের পূর্ব পর্যন্ত স্পষ্টতই মানুষের আকৃতিতে থাকে। পেত্নীদের আকৃতিতে একটিই সমস্যা রয়েছে, তা হলো তাদের পাগুলো পিছনের দিকে ঘোরানো।
  • শাকচুন্নি: শাকচুন্নি শব্দটি সংস্কৃত শব্দ শাকচুরনী থেকে এসেছে। এটা হলো বিবাহিত মহিলাদের ভূত যারা বিশেষভাবে তৈরি বাঙ্গালি শুভ্র পোশাক পরিধান করে এবং হাতে শঙ্খ বা শাঁখা পরিধান করে। শাঁখা হলো বাঙ্গালি বিবাহিত মহিলাদের প্রতীক। শাকচুন্নিরা সাধারনত ধনী বিবাহিত মহিলাদের ভেতর ভর করে বা আক্রমণ করে যাতে করে তারা নিজেরা সেই মহিলার মত জীবন যাপন করতে পারে ও বিবাহিত জীবন উপভোগ করতে পারে। লোকগাঁথা অনুসারে তার আম গাছে বসবাস করে।
  • চোরাচুন্নি: চোরাচুন্নি অত্যন্ত দুষ্ট ভূত। এরা মানুষের অনিষ্ট করে থাকে। সাধারনত কোন চোর মৃত্যুবরণ করলে চোরাচুন্নিতে পরিনত হয়। পূর্ণিমা রাতে এরা বের হয় এবং মানুষের বাড়িতে ঢুকে পড়ে অনিষ্ট সাধন করে। এদের হাত থেকে বাঁচার জন্য বাড়িতে গঙ্গাজলের (বাংলা সংস্কৃতিতে গঙ্গা জলকে পবিত্র জল হিসেবে বিবেচনা করা হয়) ব্যবস্থা করা হয়।
  • পেঁচাপেঁচি: এ ধরনের ভূত সচরাচর দেখা যায় না। পেঁচাপেঁচি ভূত ধারনাটি পেঁচা থেকে এসছে এর স্ত্রী বাচক হলো পেঁচি। এরা জোড়া ধরে শিকার করে থাকে। বাংলার বিভিন্ন জঙ্গলে এদের দেখা যায় বলে বিশ্বাস করা হয়। এরা সাধারনত জঙ্গলে দুর্ভাগা ভ্রমণকারীদের পিছু নেয় এবং সম্পূর্ণ একাকী অবস্থায় ভ্রমণকারীকে আক্রমণ করে মেরে ফেলে ও এরা শিকারের দেহ ভ্যাম্পায়ার স্টাইলে ছিড়ে ছিড়ে খায়।
  • মেছোভূত: এ ধরনের ভূতেরা মাছ খেতে পছন্দ করে। মেছো শব্দটি বাংলা মাছ থেকে এসেছে। মেছো ভূত সাধারনত গ্রামের কোন পুকুর পাড়ে বা লেকের ধারে যেখানে বেশি মাছ পাওয়া যায় সেখানে বসবাস করে। মাঝে মাঝে তারা রান্নাঘর বা জেলেদের নৌকা থেকেও মাছ চুরি করে খায়। বাজার থেকে কেউ মাছ কিনে গাঁয়ের রাস্তা দিয়ে ফিরলে এটি তার পিছু নেয় এবং নির্জন বাঁশঝাঁড়ে বা বিলের ধারে ভয় দেখিয়ে আক্রমণ করে মাছ ছিনিয়ে নেয়।
  • দেও: এধরনের ভূত নদীতে বা লেকে বসবাস করে। এরা লোকজনকে পানিতে ফেলে ডুবিয়ে মারে বলে বিশ্বাস করা হয়।
  • নিশি: ভূতদের মধ্যে অন্যতম ভয়ংকর হলো নিশি। অন্যান্য ভূত সাধারণত নির্জন এলাকায় মানুষকে একা পেলে আক্রমণ করে, কিন্তু নিশি গভীর রাতে শিকারকে তার প্রিয় মানুষের গলায় নাম ধরে ডাকে এবং বাইরে বের নিয়ে যায়। নিশির ডাকে সারা দিয়ে মানুষ সম্মোহিত হয়ে ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে পড়ে, আর কখনো ফিরে না। মনে করা হয় তারা নিজেরাও নিশিতে পরিনত হয়। কিছু কিছু তান্ত্রিক অন্যের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য নিশি পুষে থাকে। লোককাহিনী অনুসারে নিশিরা কোন মানুষকে দুবারের বেশি ডাকতে পারে না, তাই কারো উচিত কেউ তিনবার ডাকলে বের হওয়া তাতে নিশির আক্রমণের ভয় থাকে না।
  • মামদো ভূত: হিন্দু বিশ্বাস মতে, এটি মুসলমান আত্মা।
  • গেছোভূত: গেছো ভূত গাছে বসবাস করে। গেছো শব্দটি গাছ (বৃক্ষ) শব্দ থেকে এসেছে।
  • ব্রহ্মদৈত্য: এধরনের ভূত সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং এরা সাধারনত কারো ক্ষতি করে না। এ ধরনের ভূতরা হলো ব্রাহ্মণের ভূত। সাধারনত এরা ধূতি ও পৈতা পরিহিত অবস্থায় বিচরণ করে। এদেরকে পবিত্র ভূত হিসেবে গণ্য করা হয়। তারা অত্যন্ত দয়ালু ও মানুষকে অনেক উপকার করে থাকে। বিভিন্ন বাংলা চলচ্চিত্রে এদের চরিত্র চিত্রায়িত হয়।
  • আলেয়া: রাতের অন্ধকারে জলাভূমিতে বা খোলা প্রান্তরে আলেয়া দেখা যায়। মাটি হতে একটু উঁচুতে আগুনের শিখা জ্বলতে থাকে। লোককথায় একে ভৌতিক আখ্যা দেওয়া হলেও বিজ্ঞানীরা মনে করে গাছপালা পচনের ফলে যে মার্শ গ্যাসের সৃষ্টি হয় তা থেকে আলেয়া এর উৎপত্তি। এর ফলে জেলেরা ভুল বুঝে সহ্য ক্ষমতা হারিয়ে মৃত্যুবরণ করে।
  • বেঘোভূত: এরা হলো সেইসব মানুষের আত্মা যারা বাঘের আক্রমণে মৃত্যুবরণ করেছে বলে বিশ্বাস করা হয়। সাধারনত সুন্দরবন এলাকায় এধরনের ভূতের কথা বেশি প্রচলিত কারণ বাঘের অভাশ্রম হলো সুন্দরবন। এসব ভুতেরা জঙ্গলে মুধ আহোরনে আগত গ্রামবাসীদের ভয় দেখায় এবং বাঘের সন্নিকটে নিয়ে যেতে চেষ্ঠা করে। মাঝে মাঝে এরা গ্রামবাসীদের ভয় দেখানোর জন্য বাঘের স্বরে কেঁদে উঠে।[১]
  • স্কন্ধকাটা বা কন্ধকাটা: এই ভূতেরা মাথাবিহীন হয়ে থাকে। সচরাচর এরা হলো সেইসব লোকের আত্মা যাদের মৃত্যুর সময় মাথা কেটে গেছে যেমন, রেল দূর্ঘটনা বা অন্য কোন দূর্ঘটনা। এ শ্রেণীর ভূতেরা সবসময় তাদের হারানো মাথা খুঁজে বেড়ায় এবং অন্য মানুষকে আক্রমণ করে তাদের দাসে পরিণত করে ও তার মাথা খুঁজার কাজে নিয়োগ করে।
  • কানাভুলো: এ শ্রেণীর ভূতেরা পথিকের গন্তব্য ভুলিয়ে দিয়ে ঘোরের মধ্যে ফেলে দেয় এবং অচেনা স্থানে নিয়ে আসে। মাঝে মাঝে মানুষ একই রাস্তায় বারবার ঘোরপাক খেতে থাকে। ভূতরা কোন নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌচ্ছার পর তার শিকারকে মেরে ফেলে। এক্ষেতে শিকার তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এধরনের ভূতদের রাতে গ্রামের মাঠের ধারে পথের মধ্যে দেখা যায়। শিকার সবসময় একাকী থাকে বা দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
  • ডাইনী: ডাইনী মূলত কোন আত্মা নয়, এরা জীবিত নারী। বাংলা লোকসাহিত্যে সাধারনত বৃদ্ধ মহিলা যারা কালো জাদু বা ডাকিনীবিদ্যাতে পারদর্শী তাদেরকেই ডাইনি বলা হয়ে থাকে। এটা বিশ্বাস করা হয় যে, ডাইনীরা গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের ধরে নিয়ে তাদের হত্যা করে এবং তাদের রক্ত খেয়ে ১০০ বছর বেঁচে থাকে।
 তথ্যসূত্র :-গুগল 

কোলকাতার ভূতেরা (Ghosts of Kolkata)


news-image ভূতের অস্তিত্বে বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, ভারতের কলকাতা শহরের বুকে বহু পুরোনো বাড়িতে রাত নামলে সত্যিই নেমে আসে অদ্ভুত নীরবতা। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী একাধিক বড় বড় বাড়িতে এখনো যাঁরা রাতে পাহারায় থাকেন, তাঁরা ওই সব চিহ্নিত জায়গার নাম শুনলেই রীতিমতো ওপরওয়ালার নাম জপতে শুরু করেন।
চলুন জেনে নিই কলকাতার কোন কোন ঐতিহ্যবাহী স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা ভুতুড়ে কাহিনী।

লালবাজার
আপনি বিশ্বাস করুন আর নাই করুন, কলকাতার খোদ পুলিশি কার্যালয় লালবাজারের সেন্ট্রাল লকআপে ভূত আছে বলে সেখানকার কর্মকর্তারা বিশ্বাস করেন। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থার সময় কলকাতার একজন সমাজবাদী নেতা লালবাজার সেন্ট্রাল লকআপে বন্দি ছিলেন। সেই সময় সময় তিনি দেখতেন একটু রাত হলেই সেন্ট্রাল লকআপের আশপাশে কোনো পুলিশ সদস্য যেতে চাইতেন না। বিষয়টি দেখে তিনি খুব অবাক হয়েছিলেন। পরে তাঁর সহবন্দিদের কাছে তিনি জানতে পারেন, লালবাজারের সেন্ট্রাল লকআপের কাছে নাকি নকশাল নেতা চারু মজুমদারের ভূত আছে।
১৯৭২ সালের ২৮ জুলাই লালবাজার সেন্ট্রাল লকআপে রহস্যজনকভাবে মারা যান চারু মজুমদার। অনেকেই মনে করেন, চারু মজুমদারের মৃত্যু নাকি স্বাভাবিক ছিল না। তার পর থেকে বহুবার খোদ লালবাজারের সেন্ট্রাল লকআপের আশপাশে চারুবাবুর অশরীরী আত্মাকে বহুবার ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। তাই এখনো রাত গভীর হলে কোনো পুলিশ সদস্য পারতপক্ষে ওমুখো হতে চান না। শোনা যায়, রাত গভীর হলেই নাকি সেন্ট্রাল লকআপের আশপাশে চারু মজুমদারের ছায়ামূর্তি দেখা যায়। একবার দেখা দিয়েই মিলিয়ে যান তিনি। সেই সঙ্গে মাঝেমধ্যে শোনা যায় আর্তচিৎকার। ফলে রাত গভীর হলে লালবাজারের সেন্ট্রাল লকআপের ধারে কাছে ঘেঁষেন না কেউই।

জাদুঘর
কলকাতা জাদুঘরের ঠিক পাশেই সদর স্ট্রিটে কয়েকশ বছরের পুরোনো একটা বাংলো ছিল। ওই বাংলোতে ওয়ারেন হেস্টিংসের মেম্বার কাউন্সিলের স্পিকস সাহেব থাকতেন। একদিন বাংলোতে একটি আর্জি নিয়ে দেখা করতে আসেন এক শিখ যুবক। ওই শিখ যুবকের সঙ্গে স্পিকস সাহেবের তীব্র কথাকাটাকাটি হয়। তারপরই রাইফেলে গুলির শব্দ শোনা যায়। মাটিতে লুঠিয়ে পড়ে শিখ যুবকের দেহ। আজও নিশুথি রাতে সেই স্মৃতি ফিরে আসতে দেখেছেন অনেকেই। কথাকাটাকাটি, গুলির শব্দ সবই শোনা যায় এখনো।
আর তাই তো রাত নামলে এখনো জাদুঘরের ওই চত্বরে যান না কেউই। রাতে পাহারায় থাকা প্রহরীরাও জাদুঘরের ওই দিকে ভুলেও পা বাড়ান না। এ ছাড়া শোনা যায়, একবার জাদুঘরের ছাদে স্কাই লাইট পরিষ্কার করতে গিয়ে দুটি শো-কেসের মাঝখানে চাপা পড়ে মৃত্যু হয়েছিল এক মজুরের। রাত নামলে দেখা যায় কে যেন প্রতি রাতে কাপড় মুড়ি দিয়ে জাদুঘরের ছাদ থেকে নেমে আসছে।

ন্যাশনাল লাইব্রেরি
কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিকে ঘিরে নানা ধরনের গল্প শোনা যায়। অনেকেই নাকি মাঝরাতে লাইব্রেরির মাঠে এক অশ্বারোহীকে ছুটে যেতে দেখেছেন। ন্যাশনাল লাইব্রেরির বল ডান্সের ফ্লোর থেকে ভেসে আসে কনসার্টের সুর। শোনা যায় পালকি চলার আওয়াজ। এসব ভৌতিক ঘটনাবলির সঙ্গে ইতিহাসের যোগ রয়েছে বলেও বিশ্বাস করেন অনেকে।
১৭৮০ সালের ১৭ আগস্টের সকাল। ওয়ারেন হেস্টিংসের সঙ্গে ফিলিপ ফ্রান্সিসের গুলির লড়াই শুরু হয়। কথিত আছে, এই গুলির লড়াইয়ের নেপথ্যে ছিলেন এক অসামান্য সুন্দরী নারী। তাঁর নাম ম্যাডাম গ্রান্ট। সেই লড়াইয়ে গুলিবিদ্ধ ফ্রান্সিসকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল পালকি করে। আর এখানে হেস্টিংস আসতেন ঘোড়ায় চেপে। সেই সব স্মৃতি আজও প্রতি রাতে খণ্ড খণ্ড হয়ে ফিরে আসে বলে ধারণা করা হয়।

কলকাতা করপোরেশন
কলকাতা মিউনিসিপাল করপোরেশন। খোদ ধর্মতলার বুকে দাঁড়িয়ে থাকা ১৯ শতকের এই লালবাড়িটি বহু ইতিহাসের সাক্ষী। তবে রাতের সময়টা এখানে একটু বেশিই থমথমে। রাত নামলেই এখানে শোনা যায় কোনো এক নারীর চাপা স্বরের আওয়াজ। অস্পষ্ট স্বরে কারো সঙ্গে যেন কথা বলেন ওই নারী। পরে শোনা যায় কান্নার আওয়াজ। যদিও সেই নারী আসলে কে তা নিয়ে ইতিহাসের স্মৃতি রোমন্থন করতে পারেননি কেউই। তবে রাত গভীর হলে এখনো যে ওই নারীর অস্তিত্ব পাওয়া যায় তা একবাক্যে মেনে নিয়েছেন অনেকেই। এই ভবনের পেছন দিকে রাতের অন্ধকারে আজও যেতে চান না কোনো নৈশপ্রহরী।
Koltaka-writers
রাইটার্স বিল্ডিং:-বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য প্রশাসনিক দপ্তর হিসেবে নবান্ন ব্যবহৃত হলেও দীর্ঘদিন ধরে রাইটার্স বিল্ডিং ছিল রাজ্যের প্রধান প্রশাসনিক কার্যালয়। আগামী দিনেও এই রাইটার্স বিল্ডিং যে তার স্বমহিমায় ফিরে আসতে চলেছে তার ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বর্তমানে সংস্কারের কাজ চলছে রাইটার্স বিল্ডিংয়ে। কলকাতার অন্যতম এই রাইটার্স বিল্ডিংয়ে রাত নামলে জনশূন্য অলিন্দ যেন হয়ে ওঠে অশরীরীদের আখড়া। একথা স্বীকার করে নেন এখানে রাত কাটানো প্রতিটি নৈশপ্রহরী। জানা যায়, এই রাইটার্স বিল্ডিংয়ের পাঁচ নম্বর ব্লকটি মোটেই সুবিধার স্থান নয়। রাত নামতেই এখানকার বারান্দা দিয়ে কারা যেন হেঁটে বেড়ায়। দৌড়ে গিয়েও দেখা যায় না কাউকেই। এখানকার ঘরগুলো থেকে শোনা যায় একটানা টাইপের আওয়াজ। দোতলায় কারা যেন ভেসে উঠে মুহূর্তেই মিলিয়ে যায়। ইতিহাস বলছে, এখানেই একসময় ছিল কলাগাছের জঙ্গল। একবার বেশ কয়েকজন ইংরেজকে এখানেই কবর দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা যায়। লর্ড ভ্যালেনটিনের তথ্য মতে, ঘোড়ায় টানা গাড়ির খেলা বা ডুয়েল (বন্দুকযুদ্ধ) চলত এই এলাকায়। লেগে থাকত খুন-জখম। এমন বহু ঘটনার কথা আজও এই এলাকায় মুখে মুখে ফেরে। এখানে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামী বিনয়-বাদল-দীনেশের হাতে কর্নেল সিমসনের খুন হওয়ার ঘটনাও ফেলে দেওয়া যায় না। সব মিলিয়ে খোদ এই সরকারি দপ্তরটিতে অশরীরীদের অস্তিত্ব আজও অস্বীকার করতে পারেন না কেউই।
আকাশবাণী
কলকাতার পুরোনো ভূতদের বাড়ির মধ্যে এক নম্বর গাস্টিম প্লেস। রেডিওর প্রথম অফিস। পরে অবশ্য আকাশবাণী ভবন হলে দপ্তরটি চলে যায়। কিন্তু পুরোনো এই আকাশবাণী অফিসটিতে ভূতদের দৌরাত্ম্যের কথা আজও অস্বীকার করার সাহস নেই কারো। রাত গভীর হলে অনেকেই দেখেছেন সাহেবের ছায়া উবু হয়ে কাজ করছে। কেউ দেখেছেন, মাঝরাতে এখানকার রেকর্ডিং রুমের বারান্দায় কারা যেন গান শুনছে। নাকি সুরে সুরে গুন গুন করে গানের আওয়াজও শুনেছেন অনেকেই। ফলে ভুতুড়ে এসব ঘটনা এখনো ভুক্তভোগীদের রীতিমতো তাড়া করে ফেরে।
হাই কোর্ট :-



তথ্যসুত্র :-নিউজ টাইম
ফটো :- গুগল সৌজন্যে